Breaking News

একটি 100 প্লাস এবং একজন লড়ি ড্রাইভারের আত্নকথা।

একটি 100 প্লাস এবং একজন লড়ি ড্রাইভারের আত্নকথা।

সকাল ১১ টার দিকে বাসা থেকে বের হয়েছি সিঙ্গাপুরের লিম চু কাং পাহাড়ি এলাকায় কিছু ভিডিও ধারণ করার জন্য। সাইকেল চালাতে চালাতে এতটাই ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি যে সাইকেলের প্যাডেল মারা আর সম্ভাব হচ্ছিল না। আশেপাশে কোথাও কোন দোকানপাঠ নেই যে একটি ঠান্ডা পানি অথবা ড্রিঙ্কস কিনে খাব। পিপাসায় বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। হটাত দেখলাম একটা কোম্পানির মেইন গেটের পাশে একটি ভেন্ডিং মেশিন। ধীরে ধীরে আমি মেশিনটির কাছে গেলাম। ভিতর থেকে সিসি ক্যামেরায় দেখে একজন সিকিউরিটি এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এখানে কি জন্য এসেছে? এখানে তো বাহিরে জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ। আমি তাকে বললাম আমি প্রচন্ড পিপাসার্থ একটা ড্রিঙ্কস ক্রয় করতে চাই। সে বলল আচ্ছা ঠিক আছে। মানিব্যাগে হাত দিয়ে দেখি কোন খুচরা পয়সা নেই। আমি তাকে অনুরোধ করলাম দুই ডলারের একটি নোট চেঞ্জ করে আমাকে খুচরা পয়শা দেবার জন্য। সে জিজ্ঞাস করল, কোন ড্রিংকসটা চাও? বললাম 100 প্লাস৷ পকেট থেকে কিছু খুচরা পয়সা বের করে মেশিন থেকে একটি 100 প্লাস দিল। আমি তাকে বার বার অনুরোধ করলাম টাকাটা নেয়ার জন্য। কিন্তু সে কিছুতেই আমার কথা শুনলো না। তাকে ধন্যবাদ জানানো ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না।
ভিডিও ধারণ শেষে আমি যখন বাসার পথে তখন প্রায় দুপুর ৩ঃ৩০ মিনিট। সেই ১১টা থেকে সাইকেল চালাতে চালাতে আমি প্রচন্ড ক্লান্ত। চুয়া চু কাং পাহাড়ি এলাকার রাস্তাগুলো উঁচুনিচু। পাহাড়ের ঢালু দিয়ে উপরের দিকে উঠতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল। এজন্য কিচ্ছুক্ষন বিশ্রামের জন্য রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। পাশ দিয়ে এক বয়ষ্ক সিঙ্গাপুরিয়ান আংকেল লড়ি চালিয়ে যাচ্ছিল। সে আমাকে দেখে গাড়ী থামিয়ে জিজ্ঞেস করল, কোন সমস্যা?
বললাম, তেমন সমস্যা নয়। তবে একটু ক্লান্ত তাই বিশ্রাম নিচ্ছি৷
হ্যা! তোমাকে দেখেও মনে হচ্ছে তুমি খুব ক্লান্ত।
সে বলল তুমি যাবে কোথায়? আমি আমার গন্তব্যের কথা বললাম। সে আমাকে বলল, তোমার সাইকেলটি আমার লরিতে তুলে দাও এবং তুমি সামনের সিটে আমার পাশে এসে বসো। যদিও তার গন্তব্য ছিল অন্যদিকে। সে আমার মুখমন্ডল এবং নিচুস্বরে ভয়েস শুনে বলল তোমাকে খুবই ক্লান্ত মনে হচ্ছে। আমি বরং তোমাকে বাসায় এগিয়ে দিয়ে আসি। লম্বা পথ তার সঙ্গে আলাপচারিতা করতে করতে সে আমাকে বাসার নিচে নামিয়ে দিয়ে গেল। আংকেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাকে বিদায় দিলাম।
সিংগাপুর ছোট্র একটি দেশ৷ এই দেশটির প্রতি ভালবাসা জন্ম নেয় এমন ছোট ছোট কিছু ঘটনার কারনেই।

সফিক ইসলাম

সিংগাপুর প্রবাসী

Check Also

দেশে আটকে থাকা এক প্রবাসী ভাইয়ের কান্না,,,

মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন একজন প্রবাসী বাংলাদেশি। তিনি দুবাই থাকেন। নয় মাস আগে পায়ের চিকিৎসা করাতে দেশে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.